শেষ বিকেলের মেয়ে

লেখক: জহির রায়হান

ক্যাটাগরি: উপন্যাস

“শেষ বিকেলের মেয়ে” উপন্যাসটি জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের মূল চরিত্র কাসেদ যে কি না পেশায় একজন কেরানি। সাথে টুকটাক কবিতা লেখার অভ্যাস আছে তার। বৃদ্ধা মা আর এক দূর সম্পর্কীয় অসহায় বোন নাহারকে নিয়ে তার সংসার। জাহানারা নামের একটি মেয়েকে কাসেদ ভালোবাসে। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না। মাঝে মাঝে জাহানারাদের বাড়িতে যায় সে। জাহানারার জন্মদিনে কাসেদের সাথে পরিচয় হয় জাহানারার কাজিন শিউলির সাথে। শিউলির হাসি-খুশি ব্যবহার ও উচ্ছ্বলতা কাসেদের ভাল লাগে। কোন এক পর্যায়ে শিউলিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে সে। কিন্তু শিউলি আরেকজনের বাগদত্তা। তাই তাকে নিরাশ হতে হয়। ওদিকে শিউলি ও জাহানারার সেতার মাস্টারকে নিয়ে জাহানারা ও কাসেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। এই উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র সালমা। সম্পর্কে কাসেদের আত্নীয়া সে। ছোটবেলা থেকে সালমা কাসেদকে ভালোবাসতো। কিন্তু কাসেদ বুঝতে পারেনি। ফলে সালমার বিয়ে হয়ে যায় অন্য এক জায়গায়। অনেক বছর বাদে যখন দুজনের দেখা হয় তখন সালমার কোলে ফুটফুটে একটি মেয়ে। কিন্তু বিবাহিত জীবনে সালমা সুখী ছিল না সে। উপন্যাসের এক পর্যায়ে সালমা কাসেদের সাথে দূরে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন কাসেদ দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। অন্যদিকে অফিসের হেড কেরানি মকবুল সাহেবের মেজো মেয়ের প্রতিও দুর্বলতা ছিল কাসেদের। কিন্তু তার অফিসের বসের সাথে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সরে আসতে হয় তাকে। এভাবে একাধিক মেয়ে আসে কাসেদের জীবনে। কিন্তু দ্বিধাগ্রস্ত কাসেদ বুঝে উঠতে পারে না কি করবে। এমতাবস্থায় কাসেদের মা মারা যান। ওদিকে নাহারেরও বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ফলে কাসেদ একেবারে একা হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন শেষ বিকেলে তার দরজায় কড়া নেড়ে হাজির হয় মেয়ে। ঔপন্যাসিক এই মেয়েকেই “শেষ বিকেলের মেয়ে” বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু কে ছিল সেই মেয়ে?



শেষ বিকেলের মেয়ে
বইটির রিভিউ দিন

রিভিউ দিন